কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় সাবেক সাংসদ আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে ককটেল হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় সাবেক সাংসদ আবু নাছের চৌধুরীর বাড়িতে ককটেল হামলা, ভাঙচুর ও গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হামলার ঘটনা ঘটে।

এলাকার লোকজনের অভিযোগ, হামলাকারীরা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ছরা গুলিতে আহত ব্যক্তিরা হলেন খতিজা বেগম (৪৫), রাফেল চৌধুরী (৩৭), আরমান চৌধুরী (৪০); ককটেলের স্প্লিন্টারে আহত ব্যক্তিরা হলেন মমতাজ বেগম (৪২) ও মনজিল চৌধুরী (২৫)। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরেও প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের অনুসারীদের ওপর হামলা চালান কাদের মির্জার অনুসারীরা। কোরবানির পশুর হাটের ইজারার দরপত্র জমা দিতে গেলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মিজানুরের কমপক্ষে পাঁচজন অনুসারী আহত হয়েছেন।

নাছের চৌধুরীর নাতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আক্রাম উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি আসরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে কাদের মির্জার শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অতর্কিতে ককটেল হামলা করতে করতে তাঁদের বাড়ির দিকে অগ্রসর হন। ককটেল ও গুলির আঘাতে বাড়ির নারী-পুরুষসহ কমপক্ষে আটজন আহত হন। এ ছাড়া বাড়ির পাকা ভবনের বেশ কিছু জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত চারটি ককটেল উদ্ধার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনার জের ধরে কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কাদের মির্জা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই। আর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, ওবায়দুল কাদেরের অনুসারী ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২১টি কোরবানির পশুর হাট ইজারার দরপত্র দাখিল করতে গিয়ে কাদের মির্জার অনুসারীদের হামলার শিকার হন মিজানুর রহমানের পাঁচ অনুসারী। তাঁরা হলেন চরএলাহীর মো. রাজু, রিয়াজ উদ্দিন ও মো. লিটন; রামপুরের মো. মিলন এবং চর ফরিকরার শাহদাত হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিচতলায় এবং আশপাশের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের কেউ যাতে দরপত্র জমা দিতে না পারেন, সে জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশে পাহারা বসান কাদের মির্জার অনুসারীরা।

হামলার বিষয়ে জানার জন্য আবদুল কাদের মির্জাকে ফোন দেওয়া হলে অন্য এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। প্রথম আলোর পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি ‘মেয়র মহোদয় ব্যস্ত আছেন’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে একই বিষয়ে জানতে চাইলে কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, নাছের চৌধুরীর বাড়িতে হামলার ঘটনা তিনি জানেন না। তবে বিকেল চারটার দিকে মিজানুর রহমানের অনুসারীরা তাঁর বাড়ির ফটকে বেশ কয়েকটি ককটেল হামলা চালান।

ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের অনুসারী মাহবুবুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, কাদের মির্জার সন্ত্রাসীরা সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে তাঁদের অনুসারীদের ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজারার দরপত্র জমা দিতে গেলে হামলা চালানো হয়। এরপর বিকেলে তাঁদের অনুসারী আক্রাম উদ্দিন চৌধুরীদের (সাবেক সাংসদ আবু নাছের চৌধুরীর বাড়ি) বাড়িতে হামলা চালান মির্জার অনুসারীরা। পুলিশের নীরবতার সুযোগে সব কটি হামলার ঘটনা ঘটছে।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started