২৩ মে খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনাভাইরাসের কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত তারিখ ২৩ মে খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যেহেতু চলমান বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। তাই ২৩ মে স্কুল-কলেজ ও ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে খোলা যাচ্ছে না।
কিছুদিন পর ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে। প্রথমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ খোলা হবে। তাদের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে ক্লাস করানোর পর পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এর আগে আগামী ২৩ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এক বছরের বেশি সময় বন্ধ রাখার পর গত ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সেটিও সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় এবং ভারতীয় ধরন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় নতুন করে বিধিনিষেধ বাড়াল সরকার। সরে এলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত থেকেও।
এমপি কিরণ ও গ্লোব পরিবারের জন্য মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত

এমপি মামুনুর রশিদ কিরন (ডানে) ও তার পুত্র জিহান আল রশিদ (বায়ে)
আবু রায়হান সরকারঃ
নোয়াখালীর লৌহমানব ও মানবতার ফেরিওয়ালা নোয়াখালী-৩ আসনের পরপর দুইবার জনপ্রিয় সংসদ সদস্য বেগমগঞ্জের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন ও ভালোবাসার মুর্তপ্রতীক,বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক,আধুনিক বেগমগঞ্জের রুপকার,গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতীক,জননন্দিত আলহাজ্জ্ব মামুনুর রশীদ কিরন এমপি ও গ্লোব পরিবারের সকল সদস্যদের সুস্থ কামনায় বেগমগঞ্জ তথা নোয়াখালীর মসজিদে মসজিদে ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে পবিত্র মাহে রমজানের জুমার নামাজ পর দোয়া করা হয়।প্রিয় ব্যক্তিদের সুস্থ কামনায় মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি মোনাজাত করেন স্থানীয় মসজিদগুলোর ইমামরা।
শুক্রবার বাদ জুমায় স্থানীয় মুসল্লীর সাথে সকল পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য,(৭ এপ্রিল) বুধবারে করোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এমপির বড় ছেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি জিহান আল রশিদ।তিনি বলেন, বাবার কোভিড-১৯ রিপোর্ট আবার পজিটিভ এলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।আল্লাহর রহমতে,মানুষের দোয়ায় আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ আছি।বাবার সুস্থতার জন্য বেগমগঞ্জবাসীসহ সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় গণপরিবহন চালুর চিন্তা করছে সরকার : সেতুমন্ত্রী

জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় সরকার ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘লকডাউনের পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় সরকার ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহন চালুর ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করছে।’
ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
বিক্ষোভে না গিয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ধৈর্য ধরারও আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার ঈদ ও রমজানের কথা বিবেচনা করে এবং শ্রমজীবী মানুষ যারা দোকানপাট,শপিংমলে কাজ করেন তাদের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ ১ মে, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস তথা মে দিবস। শ্রমিকদের লড়াই, সংহতি, দৃঢ়তা ও রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা অর্জিত বিজয় দিবসই মে দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগেই বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ২২ জুন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, একই দিনে বাংলাদেশ আইএলও এর ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে, যা ছিল একটি বিরল ঘটনা। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম শ্রমনীতি ঘোষণা করেন। যেখানে মালিক শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন, শিল্পের শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা এবং কল্যাণের প্রতি জোর দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত ও মেহনতী মানুষের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা সরকার শ্রমিকবান্ধব সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের চেষ্টায় শিশুশ্রম নিষিদ্ধ ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি এবং কৃষি-শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেছে সরকার।
এ সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঈদের আগেই বিভিন্ন কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতিও অনুরোধ জানান।
বিএনপি করোনা নিয়ে যতই অপপ্রচার করুক তাতে জনগণ বিশ্বাস করে না এবং সাড়া দেয় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা অবিচল আর জনগণের প্রতি সুদৃঢ় কমিটমেন্ট থেকেই সরকার সংক্রমণ রোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একদিকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলে অপরদিকে অনিয়ম,সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিলে বলে বিরোধীদলকে দমন করছে। আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বকে পবিত্র সেবা হিসেবে নিয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।
বিজ্ঞাপন
সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের সহজাত ঐতিহ্য উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াল ঘুর্ণিঝড়ে জীবন ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় যখন তখন বঙ্গবন্ধু নির্বাচন কর্মকান্ড স্থগিত করে বলেছিলেন, নির্বাচন বড় কথা নয়, দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন রাজনীতি। তাই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন দুর্গত মানুষের মাঝে।
ভেরিফাইড আইডি ছাড়া অন্য সকল ভুয়া আইডি থেকে প্রচারিত বক্তব্য বা ছবি অথবা অন্য কোন কমেন্ট থেকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে ২০১টি ভুয়া আইডি দেখা যাচ্ছে। এসব ভুয়া আইডি থেকে কে বা কারা উদ্দেশ্য মূলকভাবে বিভিন্ন বক্তব্য ও ছবি আপলোড করছে, যা আইনসিদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে আমি যে আইডি ব্যবহার করছি সেটা ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি।


আগামীকাল মহান মে দিবস

(ব্রেকিং নিউজ বিডি/ বাসস) :
আগামীকাল মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘মালিক-শ্রমিক নির্বিশেষ মুজিববর্ষে গড়বো দেশ’।
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ জনিত মহামারিতে বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল থাবা আঘাত হেনেছে। ফলে গভীর সংকটে পড়েছে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসহ দেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। এ পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে থেকে ত্রাণকাজ পরিচালনাসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তাই কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার উদ্যোগ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে এবং আইএলও-র ৬টি কোর কনভেনশনসহ ২৯টি কনভেনশন অনুসমর্থন করে। এটি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় এক অনন্য মাইলফলক। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে সকলকে দলমত নির্বিশেষে একাত্ম হতে হবে। এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে শ্রমিক-মালিক স¤প্রীতি দেশের উন্নয়নের পথকে তরান্বিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-মান উন্নয়ন ও কল্যণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াল পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ বিতরণসহ সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকার সংকট মোকাবিলায় শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।”
তিনি বলেন, ‘রপ্তনিমুখী তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা শিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২০ বাস্তবায়নের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের অনুকূলে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কল-কারখানা চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিশ্চিতকরতে হবে।’
মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মহান মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো স¤প্রচার করবে।
এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় চলমান সংকটে কর্মহীন, খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সকল বিত্তবান ও স্বচ্ছল মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
এতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে সারাবিশ^ এক মানবিক সংকটের সম্মুখীন। মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবন-জীবিকাও। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে খেটে খাওয়া, দিনমজুর কর্মহীন এইসব মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এবং সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ খেটে-খাওয়া দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
ইউরোপার সেমিতে রোমাকে উড়িয়ে দিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ম্যানচেস্টার (যুক্তরাজ্য), ৩০ এপ্রিল ২০২১ (breakiing news bd/বাসস/এএফপি):
রোমাকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গতকাল ওল্ড ট্রাফোর্ডে সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে স্বাগতিক ইউনাইটেডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন এডিনসন কাভানি ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
কোচ ওলে গুনার সুলশারের অধীনে এবার ফাইনালে খেলার লক্ষ্য স্থির করেছে ইউনাইটেড। আগের দুই মৌসুমে চার সেমি-ফাইনালে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। পঞ্চমবারের প্রচেস্টায় সফল হবার পথে রয়েছে দলটি। এখন শুধুমাত্র দ্বিতীয় লেগে যদি ধ্বসে যায় তাহলেই কেবল ফাইনালের পথটি রুদ্ধ হবে ইউনাইটেডের।
ম্যাচের শুরুতে ফার্নান্দেজ গোলে এগিয়ে গেলেও কিছু সময়ের মধ্যে লরেঞ্জো পেলেগ্রিনির পেনাল্টি ও এডিন ডেকোর টোকা থেকে আসা গোলে পিছিয়ে যায় স্বাগতিক ইউনাইটেড। কিন্তু সফরকারী ইতালীয়রা বিরতির আগেই ইনজুরির কারণে তিনজন খেলোয়াড়কে হারায়। আর সুযোগ শতভাগ কাজে লাগায় ইংলিশ জায়ান্টরা।
বিরতি থেকে ফিরে পরপর দুটি গোল করে ইউনাইটেডকে ফের চালকের আসনে বসিয়ে দেন কাভানি। এর পর পেনাল্টি থেকে আরো একটি গোল করেন ফার্নান্দেজ। ইউনাইটেডের হয়ে বাকী গোল দুটি করেছেন পল পগবা ও ম্যাসন গ্রীনউড। ফলে ১৯৬৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের পর প্রথমবারের মত ইউরোপীয় সেমি-ফাইনালে ছয় গোলের নজির স্থাপন করে ইউনাইটেড।
ম্যাচ শেষে সুলশার বলেন,‘ ছেলেদের এই জবাব খুবই স্বস্তির। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুবই ভাল খেলেছি।’
বাস্তবতা হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগে শিরোপার দৌঁড় থেকে ছিটকে পড়েছে ইউনাইটেড। যদিও শীর্ষ চারের অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে ক্লাবটি। যে কারণে শিরোপা স্বপ্ন পুরনের জন্য গতকাল বেশ শক্তিশালী একাদশের নাম ঘোষনা করেন সুলশার। চার বছর ধরে শিরোপা খরায় ভুগছে রেড ডেভিলসরা।
ইউনাইটেড কোচ বলেন,‘ আমরা জানি দলে বেশ কজন সৃস্টিশীল খেলোয়াড় আছে। যারা বড় সুযোগ সৃস্টি করতে পারে, গোল করতে পারে এবং দলকে অবস্থানে পৌছে দেয়ার সব রকম প্রচেস্টা চালিয়ে যেতে পারে। মার্কাস (রাসফোর্ড), ব্রুনো, পল – এরা সবাই পারদর্শী। আজকের ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়ার কারণ হচ্ছে আমরাা যে সুযোগগুলো পেয়েছি তার বেশীরভাগই কাজে লাগাতে পেরেছি।’
এদিকে প্রথমার্ধেই ইনজুরির কবলে পড়েন রোমার ফুটবলার জর্ডান ভেরেটউট ও লোপেজ। বিরতিতে যাবার আগমুহুর্তে তাদের পথ অনুসরণ করে সাজঘরে ফিরেন লিওনার্দো স্পিনাজোলা। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে বদলী হিসেবে আর কোন খেরোয়াড়কে মাঠে নামাতে পারেনি ইতালীয় ক্লাবটি।
রোমার কোচ বলেন,‘ প্রথমার্ধে আমরা বেশ ভাল খেলেছি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেটি রক্ষা করতে পারিনি। প্রথমার্ধে অসাধারণ খেলা দলটির দ্বিতীয়ার্ধের এমন অবস্থার বর্ননা করা কঠিন।’
এদিকে স্পেনের ভিয়ারিয়ালে অনুষ্ঠিত ইউরোপা লিগের আরেক সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগে স্বাগতিকদের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্সেনাল। ফলে ফাইনালের পথটি কিছুটা হলেও সংকুচিত হয়ে পড়ল গানারদের জন্য।
আগামী ৬ মে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগের ম্যাচ।
রওশন এরশাদ সিএমএইচে ভর্তি

breaking news bd
ঢাকা, ৩০ এপ্রিল, ২০২১ : হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব মামুন হাসান আজ বাসসকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, রওশন এরশাদ রোজা রাখছিলেন। প্রচন্ড গরমে গতকাল তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয় ও পেটে গ্যাস হয়।
এ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে।
তবে বর্তমানে রওশন এরশাদ সুস্থ আছেন এবং আগামীকাল অথবা পরশু দিন তিনি বাসায় ফিরে আসতে পারেন বলে তিনি জানান।
বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে
breaking news bd desk report:
বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা শুক্রবার পর্যন্ত ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে। ভারতে সম্প্রতি দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার সংক্রমন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এএফপি’র পরিসংখ্যানে এ কথা জানানো হয়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে প্রথম করোনা ছড়িয়ে পড়ার পরে সরকারী হিসাব সমন্বয় করে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৩ লাখ। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে দৈনিক নতুন সংক্রমন দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ লাখ মানুষের মুত্যু হয়েছে।
অক্টোবর থেকে জানুয়ারি দ্বিতীয় ওয়েবের পরে বিশ্বব্যাপী দৈনিক সংক্রমন ৩ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমানে তা একদিনে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার।
গত ৭ দিনে ভারতে ২৫ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে, যা গড়ে একদিনে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার। এই সংখ্যা মধ্য ফেব্রুয়ারির চেয়ে ৩০ গুণ বেশী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নতুন ভাইরাস ভ্যারিয়ান্ট এবং ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যর্থতার কারণে ভারতে মহামারি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্তের মধ্যে বেশী আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যা ৩২.৩ মিলিয়ন, এরপর ভারতে ১৮.৮ মিলিয়ন এবং ব্রাজিলে ১৪.৬ মিলিয়ন।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ভাতিজাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাতে চাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হোসেন
অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ভাতিজাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাতে চাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হোসেন

কামরুল ইসলামঃ
সেনবাগ উপজেলার, ৭নং মোহম্মদপুর ইউনিয়নের দঃ রাজারামপুর গ্রামের ‘গোরফান মেম্বার বাড়ি’তে জায়গা সম্পত্তির জের ধরে বাদী মোঃ সাইফুল ইসলাম সৌরভ (সম্পর্কে ভাতিজা) বিবাদী ১/ মোঃ আবুল খায়ের (চাচা) ও ২/ মোঃ আবুল হোসেন (জেঠা) এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অন্যায় অত্যাচারের বর্ণনা তুলে ধরে পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানান এনারা তাদের মেজো ভাই আবুল কালাম (বাদীর পিতা) এর উপর অন্যায় অত্যাচার করেছেন এবং এনারা তাদের অপর ভাই-বোনদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেঠা আবুল হোসেন সাধারণ ডায়রিতে লিখেছেন “অামি চট্টগ্রামে অাসার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে গাড়িতে উঠতে গেলে সৌরভের মা তাকে বলে- চলে যাচ্ছে, অাটকা” যা ওনার একটি অবান্তর কল্পনাপ্রসূত মিথ্যা অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির লোকেরা জানান, তার মা রাস্তায় ছিলেন না। তাহলে কিভাবে তিনি, অর্থাৎ সৌরভে মা বাড়িতে উপস্থিত থেকে রাস্তায় সৌরভকে অাদেশ দিলেন? এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ ও পূর্বের নিজের অন্যায় অাচরণকে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র মত করতে চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা জনাব আবুল হোসেন। উল্লেখ্য, ওই দিনে তিনি ভাই-বোনদের জায়গা-সম্পদ বুঝিয়ে না দিয়ে নিজের অংশ বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন বলে ওনার বড় বোনের ছেলেরা ওনাকে থেকে গিয়ে সমাধান করার জন্য বলেন। সৌরভ বলেন, ‘ আমি আমার জেঠাকে আত্মীয়তার স্থান থেকে বাড়িতে থেকে গিয়ে আমার আব্বার সাথে মিলে যেতে বলি এবং আমাদের ফুফুদের সাথে মিটমাট করে যেতে বলি কিন্তু তিনি কোনভাবেই থাকতে চাননি বরং তিনি আমাদেরকে বাদ দিয়ে ওনার এক অংশ সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করে গোবিন্দপুরস্থিত অপর এক অংশ বিক্রয়বকরে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন’।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন চৌমুহনী পৌর মেয়র আলহাজ্ব খালেদ সাইফুল্লাহ

বৈশ্বিক মহামারি কোভিট-১৯ এর নতুন ঢেউ মোকাবেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম বিতরণ করেন চৌমুহনী পৌরসভা সভার মেয়র আলহাজ্ব খালেদ সাইফুল্লাহ ।
গতকাল পৌর এলাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে করোনার স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন নিজ হাতে। এ সময় পৌরসভার প্রায় ১১২টি মসজিদের জন্য মাস্ক,১২ টি করে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও অসহায়,গরীব, পথচারী ও সাধারণ মানুষদের মাঝে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারও বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২নং নাজিরপুর এলাকার কাউন্সিলর তাকিব উদ্দিন চৌধুরী রাকিব, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এর নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ । প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে অনেকে। করোনা প্রতিরোধ করতে সচেতনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে এই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি বলে জানান প্যানেল মেয়র তাকিব উদ্দিন চৌধুরী রাকিব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ডাকে সাড়া দিয়ে, ” সবাই মিলে মাস্ক পরি,করোনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” এ স্লোগান কে সামনে রেখে করোনার নতুন ঢেউ আটকে দেয়ার লক্ষে এমন কর্মসূচী অব্যহত থাকবে বলে জানান পৌর মেয়র। জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব- মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে বাইরে না যায়, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে এবং প্রত্যেকটি সভা বা সিম্পোজিয়াম, সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সামাজিক দূরত্ব মেনে করতে হবে। যতদূর সম্ভব খোলা জায়গায় কর্মসূচি করতে হবে। ঘরের মধ্যে করলে করোনার প্রাদুর্ভাব আরও বেশি দেখা দেয়।
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সরঞ্জাম বিতরণ এবং এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সকল প্রকার প্রচারণা অব্যাহত রাখা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: বিচার চেয়ে হেফাজত নেতা আব্দুর রহিম কাসেমীর পদত্যাগ

নরেন্দ্র মোদীর সফর ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচার চেয়ে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন হেফাজতে ইসলামের এক কেন্দ্রীয় নেতা।
শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম কাসেমী এই ঘোষণা দেন।
মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমি হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়ে দেন।
লিখিত বক্তব্যে কাসেমি বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অমানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে এ সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থাকি এবং আমার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমস্ত মাদরাসাসমূহের শিক্ষক ও ছাত্রদের এ সমস্ত দেশ ও ইসলামবিরোধী কাজে যোগদান না করতে বাধ্য করি।”
গত ২৬ ও ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় একদল মাদ্রাসা ছাত্র। তারা রেলওয়ে স্টেশন, ভূমি অফিস, থানাসহ বহু সরকারি-বেসরকারি অফিস ও স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয়। এই সহিংসতায় হতাহতের ঘটনাও ঘটে।
বক্তব্যে কাসেমি আরও বলেন, “রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি করা এবং হরতাল চলাকালে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তাতে আমি এবং আমার মাদ্রাসার কোনো ছাত্র অংশগ্রহণ করেনি। আমি হেফাজতে ইসলামের চলমান কোনো কার্যক্রমের সাথে জড়িত নই। তাদের সকল প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রমকে শরীয়তসম্মতভাবে অবৈধ মনে করি।”
তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সকল কার্যক্রম এবং জাতীয় ও জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করে এই তাণ্ডবের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আবেদন জানান।
“আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে ইসলামের সকল কার্যক্রম এবং জাতীয় ও জেলা কমিটির পদসমূহ থেকে পদত্যাগ করছি। যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকার ও প্রশাসনকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।”
উখিয়ায় ক্যাম্পে তিন রোহিঙ্গার গলাকাটা লাশ

কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্পে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন রোহিঙ্গার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন।
কক্সবাজার-১৪ এপিবিএন-এর অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজাপালং ইউনিয়নের ২-ইস্ট নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আলী হোসেনের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৩), তার স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৬) ও শ্যালিকা হালিমা খাতুন (২০)।
স্থানীয়দের বরাতে এসপি নাঈমুল ইসলাম বলেন, উখিয়ার ২-ইস্ট নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায়ও তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটে।
“এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা পরস্পরের উপর হামলা করে। এতে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।”
এই এপিবিএন কর্মকর্তা আরও বলেন, সন্ধ্যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে এপিবিএন-এর সদস্যরা বাড়ি থেকে তিন জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে মরিয়ম খাতুনের গলা কাটা এবং অপর দুইজনের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
লাশ উখিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উখিয়া থানার ওসি মো. সঞ্জুর মোর্শেদ জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো করা হয়েছে।
ফুরিয়ে যাচ্ছে টিকার স্টক

পুরোপুরি সুরক্ষা না দিলেও করোনা নিয়ন্ত্রণে অন্যতম উপায় হচ্ছে এই ভাইরাসের প্রতিরোধী টিকা। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয়ভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় এবং গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ। কিন্তু এরইমধ্যে দেশে টিকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। টিকা চেয়ে ভারতের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত সেই চিঠির কোনও জবাব আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই যদি টিকার বিকল্প সোর্স তৈরি না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বিপদ নিশ্চিত। একটি মাত্র সোর্সের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ সংকটে পড়তে যাচ্ছে।
দেশে রবিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬০৯ জন। অর্থাৎ দুই ডোজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৭০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯৯ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সারা দেশে টিকার জন্য মোট নিবন্ধন করেছেন ৭১ লাখ ১৯ হাজার ১ জন।
কত টিকা এসেছে
অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ টিকা আনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গত বছরের পাঁচ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছিল তাতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে তিন কোটি ডোজ টিকা রফতানি করবে এবং সে অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না।
জানা গেছে,এ পর্যন্ত ভারত থেকে টিকা এসেছে মোট এক কেটি দুই লাখ ডোজ। এরমধ্যে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি প্রথমে আসে ২০ লাখ ডোজ। সরকারের অর্থে কেনা টিকার প্রথম চালানে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ আসে আরও ২০ লাখ ডোজ এবং সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ আসে ১২ লাখ ডোজ। অর্থাৎ, ভারত থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে এক কোটি দুই লাখ ডোজ।
দেশে গত সাত ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় টিকার দ্বিতীয় ডোজ। গত ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য চুক্তির ৩০ লাখ এবং মার্চ মাসের ৫০ লাখ— অর্থাৎ চুক্তির ৮০ লাখ টিকা এখনও দেশে আসেনি। এপ্রিল মাসে টিকা আসার সম্ভাবনা এখনও পর্যন্ত নেই।
স্বাস্থ অধিদফতরের সূত্র জানায়, দেশে এখন মজুত টিকা রয়েছে ৪৯ লাখের মতো। আর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া বাকি রয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮১ ডোজ। প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ টিকা যদি বর্তমান হারে চলতে থাকে, তাহলে মজুত টিকা ফুরিয়ে যাবে আগামী ১৫ থেকে একমাসের মধ্যে।
শঙ্কায় স্বাস্থ্য বিভাগ
সম্প্রতি ভারত সরকার অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা রফতানি সাময়িকভাবে স্থগিত করায় টিকা পাওয়া নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
টিকা পাওয়া যাবে কিনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত ২৯ মার্চ বলেছেন, এই মাসে টিকার যে চালান আসার কথা ছিল, সেই টিকা আমরা পাইনি। সেটা যথাযথ পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আর যদি টিকা না পাই, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চিন্তা করতে হবে।’
এরপর গত ৬ এপ্রিল ‘ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ গত মাসে আমরা পাইনি’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফের বলেন, ‘ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। টিকার ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া যাবে কিনা, সে নিয়ে চিন্তিত তারা। এর কারণ হিসেবে হাতে যথেষ্ঠ পরিমাণ টিকা না থাকার কথাও জানান তারা।
অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা চেয়ে সেরাম ইনস্টিটিউটকে চিঠি দেওয়া হলেও তার জবাব এখনও আসেনি। এতে করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্পুটনিক-ভি সমাধান হতে পারে
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশিয়ার তৈরি স্পুটনিক-ভি টিকা বিভিন্ন পরীক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর বলে প্রমাণিত। দেশে এই টিকা আনার জন্য একটি কনসোর্টিয়াম কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যেই ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে আবেদন জমা দিয়েছে। স্পুটনিক-ভি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি দেশে ব্যবহার হচ্ছে। ভারতেও ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও এর অনুমোদন দেয়নি।
টিকার বিকল্প সমাধান খোঁজার জন্য অনুরোধ করেছেন জাতীয় কোভিড-১৯ বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি একটা সমাধান হতে পারে।’
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এভাবে তো চলতে পারে না। আর সরকার কেবলমাত্র একটি সোর্স থেকে টিকা আনছে। একটি মাত্র সোর্সের ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের জন্য দুর্বলতা।’
সেক্ষেত্রে স্পুটনিক আমদানি করা যেতে পারে, তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও ভ্যাকসিনের এই সংকট কেটে যেতে সাহায্য করবে বলে জানান তিনি।
শঙ্কা থাকলেও চলছে চেষ্টাও
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘প্রতিদিন যদি এক লাখ করে টিকা দেওয়া হয়, তাহলে বাকি টিকা দিয়ে একমাস চলা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘তবে মে মাসে কোভ্যাক্স থেকে এক কোটি ৯ লাখ ডোজ পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদি এটা এ সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়, তাহলে সংকট এড়ানো যাবে।’
অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, ‘এছাড়াও বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ভ্যাকসিন নিয়ে চুক্তি করার চেষ্টা হচ্ছে। সেটাও যদি আনা যায় তাহলেও সংকট থাকবে না।’
টিকা কোথাও না কোথাও থেকে আসবে। না আসার কোনও কারণ নেই জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, তবে কোভ্যাক্স থেকে অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা আসবে। একইসঙ্গে কোভ্যাক্স থেকে জুনের শেষের দিকে ফাইজারের টিকা আসবে, যদিও সেটা পরিমাণে অনেক কম। হয়তো এক লাখ। এক লাখ দিয়ে ৫০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।
তিনি বলেন, প্রথম ডোজ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৮ লাখ মানুষকে দেওয়া হয়েছে। তাহলে সেটা আরও এই পরিমাণ মানুষকে দিতে হবে। সেখানে আছে ৪২ লাখের মতো। আরও ১৬ লাখ দরকার। আশা করি, সেটা হয়তো চলে আসবে। কোভ্যাক্স থেকে আসতে পারে, ভারত থেকেও আসতে পারে।
ভারত থেকে কবে আসতে পারে জানতে চাইলে অধিদফতরের এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তাদের নিজেদের টিকাই নাই। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।
সেটা না হলে মে মাসের মাঝামাঝি গিয়ে কিছুটা স্লো হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া ঝামেলা হওয়ার কথা না।
ইতোমধ্যে যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টিকা কিনে রেখেছে, তারাও টিকা ছেড়ে দেবে। সেটা চলে যাবে কোভ্যাক্সে। আমরাতো কোভ্যাক্স থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা পাবোই মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা বলেন, যদিও একটু হতে পারে ১৫ মে থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এই সময়ে একটা সমস্যা হতে পারে, যেহেতু একটা ক্রাইসিস পিরিয়ড চলছে। সবাই চিন্তিত, তবে গ্লোবাল ইকুয়েশনে মনে হচ্ছে— তেমন ক্রাইসিসে পরার কথা না, বলেন তিনি।
টিকা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘একটু শঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি এর সমাধান করার। যদি সেরামের কাছ থেকে সময় মতো টিকা দ্রুত নাও পাওয়া যায়, তাহলে অন্য উৎস থেকে আনার চেষ্টা করবো।’
চলমান লকডাউনের মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

চলমান লকডাউনের মেয়াদ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধের) মেয়াদ একই শর্তে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আরও এক সপ্তাহ লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস জনিত রোগ সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক বিশেষ ফ্লাইট চলাচল, ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ পূর্বের সকল বিধিনিষেধ আরোপের সময়সীমা আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। আগামী ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকার কথা ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে সংক্রমণরোধে আরও এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ আরোপের সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। লকডাউনের মেয়াদ বাড়াতে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় অনুষ্ঠত সভা হয়। সেখানে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। নতুন মেয়াদেও এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,
১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
৩. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।
৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।
৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।
৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।
৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।
১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদপেক্ষ গ্রহণ করবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।
১১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।
১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবির নামাজে জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।
১৩. উপরোক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে হেফাজত নেতারা বললেন ‘কিছু বলার নাই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা। সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে হেফাজতের ৫/৬ জন শীর্ষ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় ঢোকেন। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তারা বেরিয়ে আসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা থেকে বের হয়ে আসার পর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন হেফাজত নেতারা। এ প্রতিবেদকদ্বয় তাদের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।
হেফাজতের মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদি বলেন, ‘আমি অসুস্থ। কথা বলতে পারছি না।’ পরে হেফাজতের মহাসচিব হিসেবে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা একটু কথা বলেছি।’
বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মামুনুল হকের ভাই মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে, তবে আর কিছু বলার নাই।’
এরপর উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক তাদের কাছে কিছু বলার অনুরোধ জানালেও তারা দ্রুতগতিতে গাড়িতে উঠে চলে যান। এসময় মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি হাত নাড়িয়ে বক্তব্য প্রদানে অস্বীকার করেন।
এর আগে রাত ১০টার দিকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় ঢোকেন। এসময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিলেন দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজী, হেফাজতের মহাসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদী, মামুনুল হকের ভাই বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান (দেওনার পীর), মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী প্রমুখ।
এর আগে সোমবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে হেফাজতের পাঁচ শীর্ষ নেতা বৈঠক করেন। হেফাজতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জেহাদী।
হেফাজতের একজন নেতা সোমবার রাত পৌনে ১২টায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুপুরে বৈঠকের ফলোআপ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তার মধ্যস্ততায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় বৈঠকটি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে কোণঠাসা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তারা গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হেফাজতের নেতারা চাইছেন, আর কোনও নেতাকর্মীকে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার না করে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। তখনও হেফাজতের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ না করেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। তবে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মাওলানা মামুনুল হক এক নারী সঙ্গীসহ আটক হলে নড়েচড়ে বসে সরকার।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাতেই হেফাজতের মধ্যম ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার (১৮ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় হেফাজতের প্রভাবশালী নেতা মাওলানা মামুনুল হককে।
সোমবার তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।



